Breaking News
Home / Exception / অনেক ছোট বয়সে হয়েছে বিয়ে, স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবার, আজ স্বামী অটো চালিয়ে স্ত্রীকে পড়িয়ে করলেন ডাক্তার!

অনেক ছোট বয়সে হয়েছে বিয়ে, স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবার, আজ স্বামী অটো চালিয়ে স্ত্রীকে পড়িয়ে করলেন ডাক্তার!

বহু প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে এমন অনেক কুপ্রথা প্রচলিত রয়েছে যা জীবনযাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাল্যবিবাহ। যদিও পরে তা আইন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এখনো দেশের অনেক অঞ্চলে এই প্রথা নানান রকম ভাবে সংগোপনে চালু রয়েছে।

বাল্যবিবাহের সবথেকে বড় সমস্যা এটাই যে ছোটবেলায় বর এবং কনে একে অপরের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের সমস্ত স্বপ্ন অধরাই থেকে যেত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের ভবিষ্যত জীবন নিয়ে আর কোনো রকমের চিন্তা ভাবনা করতে পারতেন না তারা। তবে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন একজন মহিলার কথা আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি যার ছোট বয়সে বিয়ে হলেও নিজের সমস্ত স্বপ্ন তিনি স্বামীর সাহায্যেই পূরণ করেছেন।

এই মহিলা হলেন রাজস্থানের জয়পুর জেলার চৌমু এলাকার বাসিন্দা রুপা যাদব। যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে বিয়ের পর মহিলাদেরকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না তাদের নতুন পরিবারের সদস্যরা। সেই জায়গায় রুপার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছেন তা নিঃসন্দেহে বলার মত।

মাত্র আট বছর বয়সে এই মহিলা রুপা যাদবের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। জানা যাচ্ছে বিয়ের সময় তার স্বামীর বয়স ছিল মাত্র 12 বছর। এত কম বয়সে বিয়ে করার পরেও নিজের জীবনে তিনি ডাক্তার হিসেবে সফলতা লাভ করেছেন।NEET -2017 তে 603 নম্বর পেয়েছিলেন রুপা। তারপর সরকারি কলেজে ভর্তি হবার পরেই তার সাফল্যের শুরুয়াত হয়। জানা যায় রুপা যাদব এবং রুকমা দেবী নামে রাজস্থানে দুই বোন ছিলেন।

এই দুই বোনের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল শঙ্করলাল এবং বাবুলাল নামের দুই ভাইয়ের সাথে। রুপা যখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন সেই সময় তার পরিবার তাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালীন তিনি জানতে পারেন দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের 84% নাম্বার পেয়েছেন। এত মেধাবী ছাত্রী দেখে রুপার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। উচ্চমাধ্যমিকে তিনি 85 শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন।

তার স্বামী তাকে এই পড়াশোনায় সমস্ত রকম সাহায্য করেছিল এমনকি ট্যাক্সি চালিয়ে তার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছিল। তার বাপের বাড়ির মতন শ্বশুরবাড়ির অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না কিন্তু তার পরেও তার পরিবার রুপার পড়াশোনায় কোনো রকম বাধা দিতে চাইনি। কৃষি কাজ ছিল রুপার শ্বশুরবাড়ির প্রধান জীবিকা। সেই কাজ থেকে রুপার সমস্ত রকমের পড়াশোনার খরচ জোগাড় না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার স্বামী ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন। স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে শেষ পর্যন্ত নিজের সমস্ত প্রচেষ্টা লাগিয়ে দিয়েছিলেন তার স্বামী।

এই সময়ে রুপার এক কাকা বিনা চিকিৎসায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান এই ঘটনায় রুপা আরো স্তম্ভিত হয়ে যায়। এর পরেই সে ডাক্তার হওয়ার জন্য সমস্ত ধরনের চেষ্টা শুরু করে। স্বামীর প্রচেষ্টায় কোটা থেকে পড়াশুনা করে ধীরে ধীরে সফলতার প্রথম সিঁড়িতে পা রাখেন রুপা। প্রথম দিকে তাকে বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হতে হয়েছিল কিন্তু তাতেও তিনি পিছপা হননি।

যেখান থেকে রুপা নিজের অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন সেই কোচিং ইনস্টিটিউটের প্রধান নবীন মহেশ্বরী রুপা যাদবের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন,”আমরা রুপা যাদব এবং তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাই। এতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও রুপা যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সকলের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক”। আমাদের সমাজে যারা অল্পতেই ভেঙে পড়েন কিংবা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আর অগ্রসর হন না তাদের জন্য রুপা যাদব একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

About roy

Check Also

বিয়ের আসরে বসেই সুন্দরী বউয়ের জন্য দুর্দান্ত গান উপহার প্রেমিক বরের, ভাইরাল ভিডিও

বিয়ে মানে সাত জন্মের বন্ধন। এই বিশেষ দিনটির জন্য নারী পুরুষ উভয়ে প্রতীক্ষা করে থাকেন। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.