Breaking News
Home / Health / ১০৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে জানুন তার দীর্ঘায়ুর রহস্য!

১০৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে জানুন তার দীর্ঘায়ুর রহস্য!

১৮ জুলাই মৃ’ত্যুবরণ করেন ১০৫ বছর বয়সী ডঃ শিগেআকি হিনোহারা। তার এই দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? অবসর না নেওয়া!

দীর্ঘায়ুর দিক দিয়ে জাপানকে বিশ্বে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে যার গবেষণা বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তিনি হলেন ডঃ হিনোহারা। মৃ’ত্যুর কিছুদিন আগে পর্যন্তও তিনি কাজ করে গেছেন, রো’গী দেখেছেন, ১৮ ঘন্টা কাজ করেছেন প্রতিদিন এবং আগামী ৫ বছর পর্যন্ত রো’গী দেখার পরিকল্পনা করে গেছেন। তিনি অবসর নেওয়াতে বিশ্বাসী ছিলেন না। কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। জাপানিজ টাইমসে তার শিষ্য জুডিট কাওয়াগুচিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরামর্শ দেন, “অবসরে যাবেন না। আর গেলেও ৬৫ বছর বয়সের অনেক পরে যান।”

কাওয়াগুচি জানান, ডঃ হিনোহারার এই দী’র্ঘায়ুর রহস্য হলো সমাজে অবদান রাখা এবং মানুষকে সাহায্য করতে পারা। ডঃ হিনোহারা মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে খুবই উৎসাহী ছিলেন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতেন তিনি অন্যদের উপকারে দারুণ কিছু করার ইচ্ছে নিয়ে।

সাক্ষাৎকারে হিনোহারা বলেন, যখন জাপানের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৮ বছর, তখনই তাদের অবসরে যাবার বয়স ছিল ৬৫ বছর। ২০১৫ সাল নাগাদ জাপানের মানুষের গড় আ’য়ু দাঁড়িয়েছে ৮৪ বছরে। সেক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সে অবসরে যাবার আসলে দরকার নেই।

মার্চ মাসে খাওয়াদাওয়ার ক্ষমতা হা’রান হিনোহারা। এ সময়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু টিউবের মাধ্যমে খেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি, এ কারণে আবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। সেখানেই কয়েক মাস পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি মনে করতেন, হাস’পাতালে তাদেরকেই দীর্ঘ সময় চি’কিৎসা দেওয়া উচিৎ যাদের বাঁচার আশা নেই।

১৯৫০ এর দশকে হিনোহারা “হিউম্যান ড্রাই-ডক” নামের বার্ষিক চিকিৎসা সেবার এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন যা এদেশের মানুষের আয়ু বাড়তে সাহায্য করে। বর্তমানে জাপানের নারীরা ৮৭ বছর এবং পুরুষেরা ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচার আশা করতে পারে। স্ট্রোক এবং হৃদরোগের মাঝে জীবনযাত্রার সংযোগ খুঁজে পেতেও তিনি সাহায্য করেন। তিনি মনে করতেন, সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একজন রো’গীকে জানা খুবই জরু’রী।

হ্যাঁ, দীর্ঘ আ’য়ু পেতে হলে কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি আরো কিছু কাজ আপনাকে সাহায্য করবে এক্ষেত্রে, জানান হিনোহারা। এগুলো হলো-

১) আনন্দে থাকুন

খুব বেশি নিয়ম মেনে চলতে হবে না, জীবনকে উপভোগ করুন। অনেকেই খাওয়া, ঘুম নিয়ে খুব চিন্তিত থাকেন। এসব নিয়ে বেশি চিন্তা করতে তিনি মানা করেন।

২) ওজন বেশি বাড়তে দেবেন না

হিনোহারা নিজে খুব সাধারণ খাবার খেতেন। ওজন সবসময় ১৩০ পাউন্ডে স্থির রাখার চেষ্টা করতেন। তার ব্রেকফাস্ট ছিল কফি, এক গ্লাস দুধ এবং এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েলের সাথে একটু অরেঞ্জ জুস। তার আর্টারি এবং ত্বক সুস্থ রাখে অলিভ অয়েল- এমনটা মনে করতেন তিনি। লাঞ্চে খেতেন কিছু কুকি এবং দুধ। কাজের চাপ থাকলে লাঞ্চ বাদই দিতেন কখনো কখনী। আর ডিনারে খেতেন সবজি, ভাত ও মাছ। সপ্তাহে দুই বার খেতেন চর্বি ছাড়া ‘মাংস।’

৩) সবসময় ডাক্তারের কথা শুনবেন না

ডাক্তাররাও সব সময়ে সব রো’গের চিকি’ৎসা করতে পারেন না। বিশেষ করে সার্জারির ব্যাপারে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে বলেন। “কেন সার্জারি করে অযথা ক’ষ্ট বাড়াবেন?” বলেন তিনি।

৪) সঙ্গীত এবং পোষা প্রাণী আপনার জন্য ভালো

“সঙ্গীত এবং পোষা প্রাণীর দেওয়া থেরাপি যে কত ভালো কাজ করতে পারে তা অনেক ডাক্তাররা কল্পনাও করতে পারেন না,“ বলেন হিনোহারা।

৫) কষ্ট কমায় আনন্দ

“ব্য’থা বা কষ্ট খুবই রহস্য’ময়, এবং জীবন উপভোগ করাটা হলো কষ্টকে ভু’লে থাকার সবচাইতে ভালো উপায়”। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি শিশুর যদি দাঁতে ব্যথা হয়, তাকে নিয়ে খেলা শুরু করলে সে দ্রুতই ব্য’থার কথা ভুলে যায়। এ ব্যাপারটা হাসপা’তালগুলোর ব্যবহার করা দরকার।

৬) সিঁড়ি ভাঙ্গুন এবং নিজের জিনিস নিজে বহন করুন

শারী’রিক শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। হিনোহারা সবসময় দুইটি করে সিঁড়ি ভাংতেন যাতে তার পেশীগুলো সক্রিয় থাকে। একটি লাঠির সাহায্যে তিনি দিনে ২ হাজার বা তারও বেশি কদম হাঁটতেন

About Admin

Check Also

এই ১০টি সাধারন লক্ষণই বলে দেবে আপনার কিডনি ড্যামেজ হতে চলেছে, আজই সতর্ক হন

কিডনির অসুখকে নিরব ঘাতক বলা হয়। চুপিসারে এই রোগ আপনার শরীরে বাসা বেঁধে আপনাকে শেষ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page